IPAC Case

‘ইডি আধিকারিকদের কথা বলুন, না হলে সমস্যায় পড়বেন’, আইপ‍্যাক মামলায় মুখ‍্যমন্ত্রীর আইনজীবীকে ধমক সুপ্রিম কোর্টের

মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, “আপনারা সংস্থার কথা না বলে ইডি আধিকারিকদের কথা বলুন। না হলে কিন্তু সমস্যা হবে।”

সুপ্রিম কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ০৫:০৫

আইপ‍্যাকের কর্ণধার এবং সংস্থার দফতরে ইডি অভিযানের দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাধা দেওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই মামলা ইডি করতে পারে না। তাঁদের কোনও মৌলিক অধিকার নেই। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, “আপনারা সংস্থার কথা না বলে ইডি আধিকারিকদের কথা বলুন। না হলে কিন্তু সমস্যা হবে।”

গত জানুয়ারি মাসে কয়লাপাচার মামলার তদন্তে ইডি আধিকারিকেরা আইপ‍্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন এবং সংস্থার দফতরে তল্লাশিতে যান। দুটি জায়গায়তেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকেরা সেখানে যান। ইডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী তল্লাশি চলাকালীন ঢুকে পড়েছিলেন। সেখান থেকে ফাইল ছিনতাই করে নিয়ে চলে যান। তল্লাশি মাঝপথেই থামিয়ে দিতে হয়।

হাই কোর্টে মামলার উঠলেও হট্টগোলের মধ্যে মামলার শুনানি হয়নি। পরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে ইডি এবং কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিক। তাঁদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মীদের মামলার তদন্ত করতে বাধা দিয়েছে। আধিকারিকদের ভয় দেখিয়েছে। এতে মৌলিক অধিকারও লঙ্ঘন হয়েছে। সেই মামলাটি মঙ্গলবার একপ্রস্থ শুনেছে। ইডির এ দিন প্রথমার্ধের শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী সওয়াল করেন, সরকারি আধিকারিকেরা যদি নিজের কাজে বাধা পান তাহলে তা সেই রাজ‍্যকেই জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে মৌলিক অধিকারের কোনও প্রশ্নই নেই। কারণ এমন যদি ঘটনা ঘটে তাহলে তা দেখার দায়িত্ব রাজ্যেরই। কারণ আইনশৃঙ্খলা রাজ্যের এক্তিয়ারের মধ্যেই পড়ে।

এর পরেই বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র বলেন মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী কপিল সিব্বলকে প্রশ্ন করেন,“যদি মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঢুকে অপরাধ করেন তাহলেও কি ইডি রাজ্য সরকারকেই জানাবে—যার প্রধান সেই মুখ্যমন্ত্রী? এটাই আপনার যুক্তি? আমরা বুঝেছি।” পাল্টা আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, “আপনারা ধরে নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী অপরাধ করেছেন।” বিচারপতি বলেন, “হ্যাঁ, সেটাই তো তথ্য।”

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, এখানে দু’টি পৃথক অভিযোগ রয়েছে। একটি আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনে অপরটি যা অন‍্য ব‍্যক্তিরা ঘটিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, কিছু তথ‍্য ইডি দিয়েছে। তার ভিত্তিতেই এই অভিযোগ উঠেছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, “আমাদের শেখানোর চেষ্টা করবেন না যে আমরা উত্তেজিত।”

এ দিন আদালতে কপিল সিব্বল দাবি করেন, ইডি একটি সংস্থা। তাই মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবি করতে পারে না। যে ইডির আধিকারিক ঘটনাস্থলে ছিলেন না তিনি জনস্বার্থ মামলা করতে পারেন না। তিনি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলেও দাবি করতে পারেন না। এর পরেই কেশবানন্দ ভারতীর কথা উত্থাপন করেন বিচারপতি। বিচারপতি বলেন, “আপনারা ইডির অফিসারদের মৌলিক অধিকারের দিকে নজর দিন, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধ হয়েছে। না হলে আপনি মূল বিষয়টি ধরতে পারবেন না। শুধু ইডির কথা বললে হবে না। ব্যক্তিগত অফিসারদের কথাও ভাবুন। না হলে সমস‍্যায় পড়তে হবে।”


Share